তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিতে জেনে রাখুন গোপন টিপস
সকালে মুখ ধুয়ে বেরোলেন, অথচ দুপুর হতেই কপাল আর নাক চকচক করছে, তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিয়ে তাহলে কোথাও ভুল হচ্ছে কি? বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই সমস্যা আরও বাড়ে, তবে সঠিক নিয়ম মানলে তেলতেলে ভাব অনেকটাই সামলানো যায় দামি কিছু না কিনেও।
এই লেখায় ত্বক কেন বেশি তেল ছাড়ে, কোন অভ্যাস উপকারী, কোনটা ক্ষতিকর, সবই আপনার জন্য সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে বলা হয়েছে। ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার, নাইট ক্রিম আর ফেসপ্যাক নিয়ে প্রচলিত কিছু কথা কতটা সত্যি, সেটাও একে একে আলাদা করে দেখে নেব আমরা, কোনো বাড়াবাড়ি ছাড়াই।
পেজ সূচিপত্রঃ তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিতে জেনে রাখুন গোপন টিপস
- তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিয়ে গোড়ার কথা
- তৈলাক্ত ত্বক কী এবং কীভাবে চিনবেন
- ত্বক কেন এত বেশি তেল ছাড়ে
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো
- তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায়
- ভুল যত্নে কী ক্ষতি হতে পারে
- কার জন্য কোন পদ্ধতি ঠিক, কার জন্য নয়
- সকাল ও রাতের ধাপে ধাপে রুটিন
- ময়েশ্চারাইজার, নাইট ক্রিম আর ফেসপ্যাকের কথা
- ঘরোয়া উপায় বনাম বাজারের পণ্য
- তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে সাধারণ ভুলগুলো কী কী
- কখন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিয়ে গোড়ার কথা
মুখের তেলতেলে ভাব নিয়ে অনেকেই বিরক্ত থাকেন, কিন্তু সব তেল খারাপ নয়।
আমাদের ত্বকে প্রাকৃতিক তেল থাকে বলেই ত্বক নরম থাকে, শুকিয়ে যায় না।
সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন তেল দরকারের চেয়ে বেশি তৈরি হয়। তৈলাক্ত ত্বকের
যত্ন তাই তেল পুরোপুরি মুছে ফেলার লড়াই নয়, বরং ভারসাম্য ফেরানোর কাজ।
এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে দেখব ত্বক কেন তেল ছাড়ে, কোন পণ্য বা অভ্যাস কাজে
লাগে আর কোনটা উল্টো ফল দেয়। মনে রাখবেন, প্রতিটি ত্বক আলাদা। একজনের জন্য
যা ভালো কাজ করেছে, আপনার ক্ষেত্রে সেটা নাও করতে পারে। তাই নিজের ত্বকের
সাড়া দেখে ধীরে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ।
তৈলাক্ত ত্বক কী এবং কীভাবে চিনবেন
ত্বকের গভীরে থাকা সিবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে সিবাম নামের তেলতেলে পদার্থ বের
হয়। এই গ্রন্থি বেশি সক্রিয় হলে ত্বক তৈলাক্ত হয়ে ওঠে। সাধারণত কপাল, নাক
ও থুতনি, অর্থাৎ টি-জোনে তেল বেশি জমে। ছিদ্রগুলো বড় দেখায়, আর মুখ ধোয়ার
কিছুক্ষণ পরেই চকচকে ভাব ফিরে আসে। মেকআপ বা সানস্ক্রিনও বেশিক্ষণ টেকে না।
তাই তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন শুরুর আগে নিজের ত্বকের ধরন চেনা জরুরি।
ঘরে বসে একটা সহজ পরীক্ষা করা যায়। হালকা ফেসওয়াশে মুখ ধুয়ে নরম তোয়ালেতে
চেপে মুছুন, তারপর কিছু মাখাবেন না। এক-দুই ঘণ্টা পর পুরো মুখ চকচক করলে
আপনার ত্বক সম্ভবত তৈলাক্ত। শুধু টি-জোন চকচক করলে সেটা মিশ্র ত্বকও হতে
পারে। এটা অবশ্য মোটামুটি আন্দাজ, কোনো রোগ নির্ণয় নয়।
ত্বক কেন এত বেশি তেল ছাড়ে
প্রধান কারণ হরমোন। বয়ঃসন্ধিকালে, মাসিকের আগে বা মানসিক চাপে হরমোনের
ওঠানামা তেল গ্রন্থিকে বেশি সক্রিয় করে বলে মনে করা হয়। বংশগত প্রভাবও আছে।
বাবা-মায়ের ত্বক তৈলাক্ত হলে আপনারও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এগুলো আপনার হাতে
নেই, তাই নিজেকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই, শুধু তৈলাক্ত ত্বকের যত্নটা বুঝে নিতে
হবে।
আবহাওয়ারও ভূমিকা আছে, আর বাংলাদেশে সেটা বেশ স্পষ্ট। গরম আর আর্দ্রতা
প্রায় সারা বছর থাকে, ঘামের সাথে তেল মিশে মুখ আরও চটচটে লাগে। ধুলাবালি আর
যানবাহনের ধোঁয়াও ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। এই কারণেই বর্ষা বা গ্রীষ্মে
তৈলাক্ত ভাব অনেকের কাছে আরও বেশি টের পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায়
খাবার নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিনি বা
সাদা ভাত বা ময়দাজাতীয় খাবার ব্রণের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, তবে এ নিয়ে
বিজ্ঞানীরা এখনও একমত নন। তেলে ভাজা খাবার সরাসরি মুখ তৈলাক্ত করে, এমন দাবির
শক্ত প্রমাণ কম। ঘুম ও মানসিক চাপও ত্বকে প্রভাব ফেলতে পারে।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো
মুখের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো, এই প্রশ্নের একটাই সেরা উত্তর নেই, তবে কিছু নিয়ম আছে। ফেসওয়াশ হবে হালকা, ফেনা হয় এমন জেল বা ফোম ধরনের, যা তেল তুলবে কিন্তু ত্বক টানটান করে ফেলবে না। ধোয়ার পর মুখ খসখসে বা জ্বালা করলে বুঝবেন পণ্যটা আপনার জন্য একটু কড়া। তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে ফেসওয়াশ হলো প্রথম ধাপ, তাই এটা বেছে নিতে সময় দিন।
অয়েলি স্কিনের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো, তা খুঁজতে গিয়ে অনেকে সবচেয়ে কড়া
পণ্যটা বেছে নেন। এতে ত্বক সাময়িক পরিষ্কার লাগে, কিন্তু ভেতরে শুকিয়ে
গিয়ে আরও বেশি তেল তৈরি করতে পারে। সাবান ব্যবহারও এড়ানো ভালো। দিনে
দুইবারের বেশি মুখ ধোয়ারও দরকার সাধারণত নেই। ঘাম বা ধুলায় ভরা দিন হলে
অবশ্য ব্যতিক্রম।
তেলতেলে ভাব দূর করার ফেসওয়াশ কেনার আগে উপাদানের তালিকাটা একবার দেখে নিন,
লেবেলের বড় বড় দাবির চেয়ে ওটাই বেশি কাজের। স্যালিসিলিক অ্যাসিড
ব্যবহারকারীদের অনেকে ব্রণপ্রবণ ত্বকে কিছুটা উপকার পান বলে জানা যায়, তবে
সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাও হতে পারে। বাজারে ব্র্যান্ডের অভাব নেই, দামও সময়ের
সাথে বদলায়, তাই আগে হাতের ভেতরের দিকে অল্প লাগিয়ে পরখ করে দেখুন।
তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায়
তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায় খুঁজতে গিয়ে অনেকে তাড়াহুড়ো করেন। অথচ
ব্রণ হয় তেল, মৃত কোষ আর ব্যাকটেরিয়া মিলে ছিদ্র আটকে গেলে। তাই নিয়মিত
হালকা পরিষ্কার, ছিদ্র বন্ধ করে না এমন পণ্য আর ধৈর্যই মূল ভরসা। ফল পেতে
সাধারণত কয়েক সপ্তাহ লাগে। ব্রণ খোঁচাখুঁচি করলে দাগ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি
বাড়ে।
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নের আরও কিছু ভালো দিক আছে। ত্বক আগের চেয়ে কম চকচকে
দেখায়, ছিদ্র কিছুটা পরিষ্কার থাকে, আর মেকআপ বা সানস্ক্রিন ভালো বসে। তবে
বাস্তবতা হলো, যত্ন নিলেই ব্রণ পুরোপুরি যাবে এমন নয়। হরমোনের কারণে হওয়া
ব্রণ ঘরের যত্নে নাও সারতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ লাগে।
ভুল যত্নে কী ক্ষতি হতে পারে
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে ঝুঁকিটা আসলে ভুল অভ্যাসের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে। বেশি
ঘষে ধোয়া, কড়া স্ক্রাব বা দিনে বারবার অ্যাস্ট্রিনজেন্ট ব্যবহার করলে
ত্বকের সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়। তখন ত্বক লাল হয়, জ্বালা করে, আর তেলও আগের
চেয়ে বেশি ছাড়ে। অর্থাৎ তেল কমাতে গিয়ে উল্টো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই
যায়, বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে।
ধরুন, একজন পাঠক ব্রণ দেখেই দিনে পাঁচবার মুখ ঘষে ধুচ্ছেন, সাথে লেবুর রস বা
টুথপেস্ট লাগাচ্ছেন। কয়েকদিনের মধ্যে ত্বক জ্বলতে শুরু করল, দাগও বসে গেল।
এমন ঘটনা আমাদের চারপাশে একেবারে অচেনা নয়। এসব ঘরোয়া টোটকার পক্ষে শক্ত
প্রমাণ নেই, বরং জ্বালাপোড়া আর দাগের ঝুঁকিটাই বেশি বাস্তব।
আরেকটা ঝুঁকি বিজ্ঞাপন, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রশংসা। ফেসবুক বা
ইউটিউবে হরেক রকম দাবি ভাসে, কিন্তু একই পণ্য সবার ত্বকে একই রকম কাজ করে না।
ফোলা, লালচে ভাব বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে পণ্যটা ব্যবহার বন্ধ করে দিন। দেরি
করবেন না। সমস্যা না কমলে ডাক্তারের কাছে যাওয়াই নিরাপদ।
কার জন্য কোন পদ্ধতি ঠিক, কার জন্য নয়
তৈলাক্ত ত্বক কি শুধু কিশোর-কিশোরীদের সমস্যা? মোটেই না। বয়ঃসন্ধিতে এটা
বেশি দেখা যায় ঠিকই, কিন্তু তিরিশের কোঠাতেও অনেকের মুখ তেলতেলে থাকে।
মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিকের আগে তেল বাড়তে পারে বলে অনেকে জানান। এই সময়
ত্বক একটু বেশি সংবেদনশীল থাকতে পারে, তাই নতুন কিছু পরীক্ষা না করে চেনা,
হালকা রুটিনে থাকাই নিরাপদ।
পুরুষের মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করার উপায় নিয়েও প্রশ্ন কম নয়। পুরুষের
ত্বকে সাধারণত তেল গ্রন্থি বেশি সক্রিয় থাকে, আবার শেভ করলে ত্বকে জ্বালাও
হয়। তাই হালকা ফেসওয়াশ, শেভের পর ঠান্ডা পানি আর জেল ধরনের ময়েশ্চারাইজার
বেশিরভাগের জন্য নিরাপদ শুরু। ধুলাবালির মধ্যে বাইরে কাজ করলে দিনের শেষে মুখ
ধোয়াটা বাদ দেবেন না।
আরও পড়ুন: শহরের জীবন থেকে গ্রামের জীবন ভালো
আবার কিছু ক্ষেত্রে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন ঘরোয়া বা বাজারের পণ্যে যথেষ্ট নয়।
যদি আপনার ত্বক প্রচণ্ড ব্যথাযুক্ত ব্রণে ভরে যায়, কিংবা গর্ত আর দাগ রেখে
যায়, তাহলে নিজে নিজে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। গর্ভবতী বা
স্তন্যদানকারী মায়েদেরও যেকোনো নতুন পণ্য শুরুর আগে চিকিৎসকের সাথে আগে কথা
বলে নেওয়াই ভালো।
সকাল ও রাতের ধাপে ধাপে রুটিন
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে সকালের রুটিন খুব ছোট রাখা যায়। প্রথমে হালকা
ফেসওয়াশে মুখ ধুয়ে নিন। তারপর জেল বা লোশন ধরনের হালকা ময়েশ্চারাইজার, আর
সবশেষে সানস্ক্রিন। বাংলাদেশের রোদে সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত
নয়, কারণ রোদে ব্রণের দাগ আরও গাঢ় হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে কয়েক
ঘণ্টা পর আবার লাগানো ভালো।
রাতে আগে দিনের ধুলা, ঘাম আর সানস্ক্রিন তুলে ফেলা দরকার। মেকআপ করলে সেটা
আগে তুলে নিন, তারপর ফেসওয়াশে মুখ ধুয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান। ধোয়ার
পর ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার দিলে সুবিধা হয় বলে অনেকে জানান,
যদিও এ নিয়ে জোরালো প্রমাণ কম। স্ক্রাব ব্যবহার করলে সপ্তাহে এক-দুইবারের
বেশি নয়, আর ত্বক লাল হলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন।
ধরুন, আপনি রোজ বাসে বা রিকশায় অফিসে যান, ফিরতে ফিরতে মুখ ঘামে আর ধুলোয়
ভরে যায়। এমন দিনে ব্যাগে ছোট একটা তেল শোষক কাগজ (ব্লটিং পেপার) রাখতে
পারেন। মুখে চেপে ধরলে বাড়তি তেল উঠে আসে। ঘষবেন না, কারণ ঘষলে তেল ছড়িয়ে
যায় আর ত্বকে জ্বালা হতে পারে।
ময়েশ্চারাইজার, নাইট ক্রিম আর ফেসপ্যাকের কথা
অনেকে ভাবেন তেলতেলে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে মুখ আরও চটচটে হবে, তাই পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু ময়েশ্চারাইজার না লাগালে ত্বক শুকিয়ে বাড়তি তেল তৈরি করতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো, এর সহজ উত্তর হলো পানি-ভিত্তিক, হালকা জেল বা লোশন, যা ছিদ্র বন্ধ করে না, অর্থাৎ নন-কমেডোজেনিক ধরনের।
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে নাইট ক্রিম নিয়েও প্রশ্ন কম নয়। মেয়েদের তৈলাক্ত
ত্বকের জন্য ভালো নাইট ক্রিম বলতে আলাদা কোনো বিশেষ নিয়ম নেই, দরকার
তেলমুক্ত বা হালকা ফর্মুলা। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ক্রিম ভালো, সেই
প্রশ্নেরও উত্তর মোটামুটি একই। আসলে অনেকের জন্য রাতে আলাদা ক্রিমের চেয়ে
দিনের ময়েশ্চারাইজারই যথেষ্ট। ঘরোয়া নাইট ক্রিম বানানোর ঝোঁক থাকলেও
সংরক্ষণ আর স্বাস্থ্যবিধির ঝুঁকি মাথায় রাখুন।
ফেসপ্যাকের ক্ষেত্রে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেসনের ফেসপ্যাক খুব পরিচিত ঘরোয়া
উপায়। বেসন ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নিতে পারে বলে অনেকে মনে করেন, তবে এর
পক্ষে জোরালো গবেষণা কম। সপ্তাহে একবারের বেশি না লাগানোই ভালো, আর শুকিয়ে
গেলে ঘষে না তুলে ভেজা হাতে নরম করে ধুয়ে নিন। জ্বালা করলে সঙ্গে সঙ্গে
সরিয়ে ফেলুন।
ঘরোয়া উপায় বনাম বাজারের পণ্য
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা সহজলভ্যতা। বেসন,
মুলতানি মাটি বা অ্যালোভেরার মতো জিনিস রান্নাঘর বা পাড়ার দোকানেই মেলে,
খরচও কম। কিন্তু উপাদানের মান, পরিমাণ আর পরিচ্ছন্নতা আপনার হাতে, ভুল হলে
ত্বকে জ্বালা বা সংক্রমণ হতে পারে। যে পদ্ধতিতে কাঁচা ফল বা মশলা সরাসরি মুখে
লাগাতে বলা হয়, সেখানে বাড়তি সাবধান থাকুন।
বাজারের পণ্যে উপাদান ও মান সাধারণত কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে, আর ব্যবহার
সহজ। বাংলাদেশে ফার্মেসি, সুপারশপ আর অনলাইনে নানা রকম পণ্য মেলে, কিন্তু নকল
পণ্যের ঝুঁকিও আছে। ধরুন, অনলাইনে কোনো পণ্য অস্বাভাবিক কম দামে মিলছে, নকলের
সম্ভাবনাটা তখন ভেবে দেখুন। সম্ভব হলে বিশ্বস্ত দোকান থেকে কিনুন আর মেয়াদ
দেখে নিন। দাম সময়ের সাথে বদলায়, তাই বাজেট আগে ঠিক করে নিন।
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে সাধারণ ভুলগুলো কী কী
সবচেয়ে চেনা ভুলটা কী জানেন? মুখ থেকে সব তেল তুলে ফেলার চেষ্টা। দ্বিতীয়
ভুল, একসাথে অনেক নতুন পণ্য শুরু করা। তৃতীয় ভুল, ফল দেখার আগেই বারবার পণ্য
বদলানো। ত্বকে জ্বালা হলে তখন বোঝাই যায় না কোনটা দায়ী। একটা একটা করে পণ্য
যোগ করুন, আর প্রতিটির জন্য অন্তত কয়েক সপ্তাহ সময় দিন।
আরও পড়ুন: খাবার খাওয়ার পর পেট ফাঁপা দূর করার উপায়
মুখে বারবার হাত দেওয়া, ব্রণ খোঁটা বা নোংরা রুমালে মুখ মোছাও বড় ভুল।
বালিশের কভার নিয়মিত বদলানোর অভ্যাসও কাজে লাগে। আর অনেকে ভাবেন তৈলাক্ত
ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন বাড়তি ঝামেলা, অথচ দুটোই ত্বকের
ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। মোবাইল ফোনের স্ক্রিনও মুখের সংস্পর্শে আসে,
মাঝেমধ্যে মুছে নিলে ক্ষতি নেই।
কখন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন
সাধারণ তেলতেলে ভাব নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার হয় না। কিন্তু কয়েক
সপ্তাহ তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিয়েও যদি ব্রণ বাড়তে থাকে, ব্যথাযুক্ত বড়
ব্রণ হয়, বা মুখে গর্ত আর গাঢ় দাগ পড়ে, তখন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানোই
ভালো। মুখে হঠাৎ অস্বাভাবিক লালচে ভাব, ফোলা বা অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া
দেখা দিলেও দেরি করা ঠিক নয়।
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে ওষুধ বা শক্তিশালী ক্রিম নিজে নিজে কিনে ব্যবহার করবেন
না। কোন ত্বকে কোন চিকিৎসা মানায়, সেটা পরীক্ষা করে ঠিক করেন চিকিৎসক। বড়
শহরে বিশেষজ্ঞ পাওয়া তুলনামূলক সহজ, অনেক সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও
চর্মরোগ বিভাগ আছে। ভিজিটের খরচ সময় আর জায়গাভেদে বদলায়, তাই আগে খোঁজ
নিয়ে নিন। সঙ্গে আগের ব্যবহার করা পণ্যগুলো নিয়ে গেলে আলোচনা সহজ হয়।
শেষ কথা
তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন মূলত তিনটি জিনিসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, হালকা পরিষ্কার,
ছিদ্র বন্ধ করে না এমন ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন। ত্বক বেশি তেল ছাড়ে
হরমোন, বংশ আর আবহাওয়ার কারণে। ঘরোয়া উপায় সীমিত কাজে আসতে পারে, কিন্তু
কড়া স্ক্রাব, টোটকা আর বারবার পণ্য বদলানো ক্ষতিই বেশি করে। ব্যথাযুক্ত ব্রণ
বা দাগ থাকলে চিকিৎসকই ভরসা।
আমার মতে, শুরুতে একটা ছোট রুটিনই সবচেয়ে ভালো কাজ করে, দিনে দুবার হালকা
ফেসওয়াশ, হালকা ময়েশ্চারাইজার আর সকালে সানস্ক্রিন। যাঁদের ত্বক শুধু একটু
চকচকে, তাঁদের জন্য এটাই যথেষ্ট। কিন্তু যাঁদের ব্রণ বেশি, দাগ পড়ছে বা ত্বক
জ্বলছে, তাঁদের জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়াই বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত। তৈলাক্ত
ত্বকের যত্ন ধৈর্যের কাজ, তাড়াহুড়োর নয়।
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।



বিদ্যা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url